চ্যানেল ওম টিভি

কলি যুগের বৈশিষ্ট্য কি, ভবিষ্যতে পৃথিবীতে কি কি ঘটতে চলেছে ?

চ্যানেল ওম ডেস্ক:

শুকদেব গােস্বামী বললেন—হে রাজন্, তারপর থেকে কলির প্রবল প্রভাবে ধর্ম, সত্যনিষ্ঠা, শুচিতা, ক্ষমা, দয়া, আয়ু, দৈহিক বল এবং স্মরণশক্তি দিনে দিনে হ্রাস পাবে।
কলিযুগে ধনদৌলতই কেবল মানুষের শুভ জন্ম, যথার্থ ব্যবহার এবং সমস্ত সদ্গুণাবলীর চিহ্ন বলে বিবেচিত হবে। মানুষের গায়ের জোরের ভিত্তিতেই ধর্ম এবং আইন প্রয়ােগ করা হবে।
শুধু বাহ্য আকর্ষণের ফলেই নারী এবং পুরুষ একত্রে বসবাস করবে। বাণিজ্যে সাফল্য নির্ভর করবে প্রতারণার উপর। রতিক্রিয়ায় দক্ষতা অনুসারে নারীত্ব ও পুরুষত্বের বিচার হবে এবং শুধুমাত্র পৈতা ধারণের মাধ্যমে কোন মানুষ ব্রাহ্মণ বলে পরিচিত হবে।
শুধুমাত্র বাহ্য প্রতীক অনুসারে ব্যক্তির আশ্রম নির্ধারণ করা হবে এবং এই ভিত্তিতেই মানুষ এক আশ্রম থেকে পরবর্তী আশ্রমে স্থানান্তরিত হবে। যথেষ্ট উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তি নৈতিকতা সম্পর্কে গুরুতর সন্দেহ আরােপ করা হবে। এবং যিনি খুব বাক্ চাতুর্য প্রদর্শন করতে পারবেন, তাকে বিজ্ঞ পণ্ডিত বলে গণ্য করা হবে।
কোন মানুষের হাতে যদি টাকা না থাকে, তাকে অসাধু বলে গণ্য করা হবে। ভণ্ডামিকে গুণ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। শুধুমাত্র মৌখিক স্বীকৃতির ভিত্তিতে বিবাহ অনুষ্ঠিত হবে এবং মানুষ মনে করবে যে শুধুমাত্র স্নান করলেই তিনি জনসমাজে উপস্থিত হওয়ার যােগ্য হয়েছেন।
দূরে অবস্থিত জলাশয়কেই তীর্থরূপে গণ্য করা হবে এবং মানুষের কেশ বিন্যাসকেই সৌন্দর্য বলে মনে করা হবে। উদরপূর্তিই হবে জীবনের লক্ষ্য এবং ধৃষ্ট ব্যক্তিকে সত্যনিষ্ঠ বলে স্বীকার করা হবে। পরিবার ভরণপােষণে সক্ষম ব্যক্তিকে সুদক্ষ বলে গণ্য করা হবে এবং শুধুমাত্র খ্যাতি অর্জনের জন্যই ধর্ম অনুষ্ঠান করা হবে।
এইভাবে পৃথিবী যখন দুষ্ট প্রজাদের দ্বারা জনাকীর্ণ হয়ে উঠবে, তখন সমাজের বিভিন্ন বর্ণের মানুষের মধ্যে যিনিই নিজেকে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে প্রদর্শন করতে পারবেন, তিনিই রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভ করবেন।
ঐ সমস্ত লােভী, নিষ্ঠুর দস্যু স্বভাব রাজারা প্রজাদের স্ত্রী ও সম্পত্তি অপহরণ করবে এবং প্রজারা পর্বত-জঙ্গলে পলায়ন করবে।
অতিরিক্ত কর এবং দুর্ভিক্ষের দ্বারা পীড়িত হয়ে মানুষ শাক পাতা, বৃক্ষমূল, মাংস, বন্যমধু, ফল, ফুল এবং ফলের বীজ খেতে শুরু করবে। খরায় পীড়িত হয়ে তারা পূর্ণরূপে ধ্বংস হবে।
তুষারপাত, প্রবল বর্ষণ, প্রখর তাপ, ঝড় এবং ঠাণ্ডায় মানুষ অশেষ কষ্ট ভোগ করবে। ঝগড়া, ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রােগ এবং প্রচণ্ড উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় তারা আরও সন্তপ্ত হবে।
কলিযুগে মানুষের সর্বোচ্চ পরমায়ু হবে পঞ্চাশ বছর।
কলিযুগ যখন শেষের পথে, তখন সমস্ত জীবের দৈহিক আকৃতি বিপুলভাবে কমে আসবে এবং বর্ণাশ্রম ধর্মের ধর্মীয় বিধিনিষেধ সব ধ্বংস হবে। মানব সমাজে বৈদিক পন্থা সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাবে এবং তথাকথিত ধর্মগুলি হবে প্রধানতঃ নাস্তিক্যবাদী। রাজারা হবে দস্যুতস্কর প্রায়, চৌর্যবৃত্তি, মিথ্যাভাষণ এবং অনাবশ্যক হিংসা হবে মানুষের পেশা। সমস্ত বর্ণের মানুষ নিম্নতম শূদ্ৰস্তরে অধঃপতিত হবে। গাভীগুলি হবে প্রায় ছাগলের মতাে, আশ্রম তপােবনগুলির সঙ্গে জড়বাদী বাড়ীঘরের কোন পার্থক্য থাকবে না, তাৎক্ষণিক বিবাহ বন্ধনই হবে পারিবারিক বন্ধন। অধিকাংশ বৃক্ষলতা হবে ক্ষুদ্র, সমস্ত গাছগুলি দেখতে হবে খর্বাকৃতি শমী গাছের মতাে। মেঘে শুধু বিদ্যুৎ চমকানি দেখা যাবে, বাড়ীঘর হবে ধর্মহীন এবং সমস্ত মানুষ গাধার মতাে হয়ে যাবে। সেই সময় পরমেশ্বর ভগবান এই পৃথিবীতে অবতীর্ণ হবেন। শুদ্ধ সত্ত্বগুণের শক্তিতে কার্য করে তিনি সনাতন ধর্মকে রক্ষা করবেন।

( তথ্যসূত্রঃ শ্রীমদ্ভাগবত, ১২/২/১-১৬ )

Leave A Reply

Your email address will not be published.