বাগানে গরু ঢোকায় সংখ্যালঘু হিন্দু দুই কিশোরীকে মারধর

বান্দরবানের লামায় সংখ্যালঘু হিন্দু দুই কিশোরীকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনের বিরুদ্ধে। প্রতিবেশীর সীমানায় গরু চরানোর জন্য তারা এই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বগাইছড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অনিতা দত্ত (১৫) ও নমিতা দত্ত (১৪) একই এলাকার শুকুরমারা ঝিরির আশিষ দত্ত ও আশা দত্তের মেয়ে এবং দুইজনেই ফাঁসিয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম ও ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী।

শনিবার(২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে তারা থানায় এসে অভিযোগ করেছেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

ওই কিশোরীদ্বয়ের বাবা আশিষ দত্ত বলেন- ‘আমি এবং আমার স্ত্রী আশা দত্ত বগাইছড়ি এলাকার এরশাদুর রহমানের বাড়িতে কাজ করি এবং তার বাগান পাহারা দেই। সন্ধ্যা হলে বাড়ির গরু আনতে আমার ছোট মেয়ে নমিতা দত্ত পাহাড়ে যায়। গিয়ে দেখে গরু পার্শ্ববর্তী ঘিলাতলীর শফি আলমের প্রকাশ চশমা বাগানে প্রবেশ করেছে। সেখানে গরু আনতে গেলে শফি আলমের বাগানের কেয়ারটেকার রহিমা বেগম (৪৫) তার বোন আমেনা বেগম (৩৫) ও আমেনা বেগমের দুই ছেলে মিলে প্রচণ্ড মারধর ও রক্তাক্ত করে ফেলে রাখে।

‘খবর পেয়ে আমার বড় মেয়ে অনিতা দত্ত সেখানে গেলে তাকে আরো বেশী মারধর করে। লাঠি দিয়ে এমনভাবে মারে দুইজনেই ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। দুইজনের মাথা ফেটে যায় ও সারা শরীর ফুলে গেছে। আশপাশের লোকজন দেখতে পেয়ে তাদের উদ্ধার করে কমিউনিটি সেন্টারের ফার্মেসিতে নিয়ে যায়। সেখানে গ্রাম্য চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশংকাজনক দেখে লামা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। রাত সাড়ে ১০টায় দুই মেয়েকে লামা হাসপাতালে ভর্তি করি।’

লামা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ সিকদার বলেন- ‘রাতেই বিষয়টি জানতে পেয়ে অফিসার ইনচার্জ এর নির্দেশে প্রথমে রোগীদের হাসপাতালে দেখতে যাই এবং পরে ঘটনাস্থলে যাই।’ এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.